মৌলভীবাজারে দোকানের বকেয়া ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়ার জেরে চা বিক্রেতা দুরূদ মিয়াকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর মামলার প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত ছাদিক মিয়া এবং নিহত দুরূদ মিয়া উভয়েই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৮ সালের ১২ জুন এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারের বিবরণ নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মকবুল মিয়া মৌলভীবাজার মডেল থানায় দায়ের করা এজাহারে জানান, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে নারাইনপাশা এলাকায় দুরূদ মিয়ার মুদি দোকানে চা খেতে যান ছাদিক মিয়া। সে সময় দোকানে বকেয়া ১ হাজার ২৬৩ টাকা পরিশোধের তাগাদা দিলে ছাদিক রাগান্বিত হয়ে বাড়ি চলে যান।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ১০ মিনিট পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ছাদিক মিয়া একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার চাচা ও ভাইসহ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় দোকানে আসেন। এ সময় আসামিদের হুকুমে ছাদিক মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে দুরূদ মিয়ার পেটের বাম দিকে (পাঁজরের নিচে) আঘাত করেন। দুরূদ মিয়ার চিৎকারে পাশের দোকান থেকে তাঁর ভাগ্নে জরিফ মিয়া ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা দুরূদ মিয়াকে সিএনজিতে করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটের উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মরদেহ পুনরায় সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।