হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গত এক মাসে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রী নিখোঁজ ও একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পরপর সংঘটিত এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার মন্দরি গ্রামে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে জায়দুল মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও তিনজন— কাটখাল গ্রামে গোসলের ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় রজব আলী (১৪ সেপ্টেম্বর), কুর্শা খাগাউড়া গ্রামে জমিতে আগাছা পরিষ্কার নিয়ে সংঘর্ষে কৃষক তাহির মিয়া (৪৮, ১৪ সেপ্টেম্বর) এবং হাওরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত তোফাজ্জুল মিয়া (৩০, ১৯ সেপ্টেম্বর)।
সহিংসতার পাশাপাশি গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাবিয়া তাবাসসুম মীম (১০) নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে, উপজেলা সদরে ইতালিপ্রবাসী ফুল মিয়ার বাড়িতে ডাকাতি করে ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তবে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ জানান, এলাকায় সংঘর্ষের প্রবণতা থাকলেও পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ শিশু মীমকে উদ্ধারে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।