সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাওর ভাতা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বে উত্তোলিত ভাতার অর্থ ফেরত নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলার সব দপ্তর প্রধান ও হিসাব বিতরণকারী কর্মকর্তাদের (ডিডিও) নির্দেশ দিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়।
তাহিরপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহ আলম জানান, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বিভিন্ন অফিসের বরাদ্দের চিঠির ওপর ভিত্তি করেই হাওর ভাতা প্রদান করে আসছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি সামনে আসায় প্রাপ্ত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বের ভাতা আদায় এবং বর্তমান ভাতা বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ১১টি জেলার ১৬টি উপজেলাকে হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয় ওই ১৬টি উপজেলার জন্য ভাতা মঞ্জুর করে। তবে ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালায় তাহিরপুরকে দ্বিতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এই বর্ধিত তালিকার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলাদা কোনো আর্থিক অনুমোদন ছিল না। ফলে তাহিরপুরে দেওয়া ভাতা অননুমোদিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই নির্দেশনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে এক বছর ধরে মাসে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে আসছেন এবং তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। অন্যদিকে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিকাশ রঞ্জন তালুকদার সরকারি সিদ্ধান্তের দায়ভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর চাপানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।