দুর্গাপূজার উৎসব বোনাস চুক্তি অনুযায়ী না দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন কমলগঞ্জের তিনটি চা বাগানের শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় আলীনগর চা বাগান হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি হয়। শ্রমিকেরা পূজার আগেই ন্যায্য বোনাস পরিশোধের দাবি জানান।
ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর চা বাগান, এর ফাঁড়ি সুনছড়া এবং কামারছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েতের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। আলীনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গণেশ পাত্রের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সজল কৈরী, শ্যামল গোস্বামী, কামারছড়া চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি দিলিপ কৈরী, সীতারাম বীন এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এ বছর বাংলাদেশ চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বিসিএস-বাচাশ্রই) চুক্তি অনুযায়ী কর্মদিবস গণনা করে উৎসব বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁদের দাবি, সপ্তাহে রবিবারের মজুরি এবং বার্ষিক ছুটির মজুরি দেওয়া হলেও অর্জিত ছুটির দিনকে কর্মদিবস ধরা হয়নি। শ্রমিকেরা যেসব দিন কাজ করেছেন, শুধু সেই দিনগুলোর হিসাব করে বোনাস দেওয়ায় অনেক শ্রমিক প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং পরিবার নিয়ে পূজা উদযাপনে সমস্যার মুখে পড়েছেন।
বক্তারা আরও জানান, বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ (২০২৬ সালে সংশোধিত) এর ২(২ক) ধারা, বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ এর ১১১(৫) বিধি এবং ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা শিল্পের ন্যূনতম মজুরি গেজেট (এসআরও নং ২৪৬-আইন/২০২৩) অনুযায়ী যেকোনো শিল্পের সব শ্রমিকের জন্য উৎসব বোনাস বাধ্যতামূলক, যেখানে কাজে উপস্থিতির কোনো শর্ত নেই। পূজার আগেই শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাস পরিশোধের জন্য তাঁরা বাগান ব্যবস্থাপনার প্রতি জোর দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপনা বা বাংলাদেশ চা সংসদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোনাস নিয়ে আরও অভিযোগ:
এর আগে ১২ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হলেও অনেক বাগানের শ্রমিক এখনো উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও পূর্ণ বোনাস না দিয়ে শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন বাগানে উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কাজের উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।