ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পোস্ট করার জেরে প্রবাসী আমজাদুর রহমানের (Amjadur Rahman) বাড়িঘর ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় ও বিভাগীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমজাদুর রহমান তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সরকারের সমালোচনা করে লেখালেখি শুরু করেন। এর জের ধরে বিএনপির স্থানীয় ও বিভাগীয় নেতাকর্মীরা পূর্বেও তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং এতে তাঁর কয়েকজন আত্মীয় আহত হন। ক্রমাগত হুমকি ও আতঙ্কের মুখে একপর্যায়ে তাঁর মা, ভাই ও বোন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে মে মাসের শুরুর দিকে আমজাদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি বন্ধ করে দেন, তবুও পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া অব্যাহত ছিল।
পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) অনুমতি নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা তাঁদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে। অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের সময় নেতাকর্মীরা হুমকি দিয়ে বলেন, আমজাদুর রহমান দেশে ফিরলে তাঁকেও একইভাবে হত্যা করা হবে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি প্রতিকার পেতে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরিবারটির অভিযোগ, থানা থেকে তাঁদের সরাসরি জানানো হয়েছে—"উপরের আদেশ আছে, আপনাদের কেস নেওয়া হবে না।"