হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি ইজারা ছাড়াই সোনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে কৃষি সেচের সুবিধার্থে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহরা ও অলিপুর এলাকার দুটি রাবার ড্যাম কাঠামোগত ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নদীর দুই তীরের বোরহানপুর, ভবানীপুর, দুর্লভপুর, আফজলপুর, বহরা, মরারচর, চৌমুহনী কোয়ারির কাশিমপুর, অলিপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর ও আশ্রবপুরসহ অন্তত ১৪টি এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্তূপীকৃত এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের তথ্য আগেই বালু উত্তোলনকারীদের কাছে পৌঁছে যায়, ফলে তারা কৌশল বদলে ড্রেজার ও যানবাহন সরিয়ে ফেলে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন সোনাই নদীতে এক অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করে। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, অভিযানের পর থেকে পুনরায় মজুত করা বালু বিক্রি শুরু করা হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানান, এসিল্যান্ড পদসহ লোকবল সংকট থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পেলেই চোরাই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সিলিকা বালু সংক্রান্ত প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এদিকে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কাজী জিয়াউল বাসেত জানিয়েছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত যৌথ ব্যবস্থা নিতে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে।