সিলেট নগরীতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকাদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে চার হাজার কুকুরকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সহযোগিতায় যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠে প্রতিদিন চারটি বিশেষ দল কাজ করবে। প্রতিটি দলে পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন—যাঁদের মধ্যে তিনজন কুকুর ধরার কাজে, একজন টিকা প্রয়োগের দায়িত্বে এবং অন্য একজন সহায়তায় নিয়োজিত আছেন। টিকা দেওয়ার পর কুকুরগুলোকে চিহ্নিত করতে শরীরে বিশেষ রং দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সিসিকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন।
সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এর আগে ২০১৮-১৯ সালে নগরীতে প্রায় তিন হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। সে সময়কার কর্মসূচির ফলে জলাতঙ্কের প্রাদুর্ভাব প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তবে সম্প্রতি দু-একটি আক্রান্তের ঘটনা নজরে আসায় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে নতুন করে এই টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নির্ধারিত সময়ে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি কতটি কুকুর টিকার আওতায় এল এবং কতটি বাদ পড়ল, তার সঠিক হিসাব রাখাও জরুরি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জলাতঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকাদান এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।