সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা ও ভাঙাচোরা গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এগুলো দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এলজিইডির অধীনে সর্বমোট ৬৮৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার সড়ক পাকা হলেও বাকি ৩০০ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব কাঁচা ও জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণ না করায় নিত্যদিনের চলাচলে বিপাকে পড়ছেন স্থানীয়রা। সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং কর্মজীবী মানুষদেরও যাতায়াতে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন রোড থেকে এখলাছপুর, সোনাপুর বাজার থেকে বাঘা মাদ্রাসা ঘাট, বাঘা-বইটিকর খেয়াঘাট থেকে লালনগর খেয়াঘাট, বাঘার বাজার থেকে মাঝের মহল্লা ঈদগাহ, দক্ষিণ বাঘা থেকে তুডুগাঁও, গোলাপনগর পশ্চিমগাঁও থেকে কান্দিগাঁও খেয়াঘাট, উত্তরগাঁও থেকে পূর্বগাঁও খেয়াঘাট এবং তুডুগাঁও থেকে লালনগর খেয়াঘাট সড়ক অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম পারভেজ জানান, ইউনিয়নের একাধিক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় এগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের দেওপাড়া-খেইড়তলা, করগ্রাম-মইনরাটিলা, লক্ষণাবন্দ পূর্বভাগ-মাঝপাড়া, লক্ষণাবন্দ-ভুটিরাপাড়া, ফুলসাইন্দ-খলাভাগি এবং নিজ ফুলসাইন্দ-বাউলিটিলা সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। ইউপি চেয়ারম্যান খলকুর রহমান জানান, সড়কগুলোর কারণে এলাকার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন এবং এগুলো দ্রুত মেরামত করা জরুরি।
একইভাবে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ ভাটাটিকর থেকে দখারপাড়া লিংক রোড, খলাশহর সড়ক ও দক্ষিণভাগ সড়ক চরম বেহাল দশায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর থেকে আছিরগঞ্জ, আছিরগঞ্জ থেকে শরীফগঞ্জ রোড, চন্দরপুর থেকে কটলিপাড়া, ঢাকাদক্ষিণ বাইপাস থেকে বিয়ানীবাজার সড়ক এবং কুশিয়ারা নদীর ডাইক সড়কের বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান হপলাল উদ্দিন জানান, এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে সাধারণ মানুষকে চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
লক্ষীপাশা ইউনিয়নে বইটিকর সিএনজি রোড থেকে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, কোনাচর মোল্লাবাড়ি থেকে লক্ষীপাশা বাজার, বাটুলগঞ্জ মাদ্রাসার সামনে থেকে ২২মোড়া, বাটুলগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে রাখালগঞ্জ বাজার এবং লক্ষীপাশা ডিএম রোড থেকে লক্ষীপাশা মহিলা মাদ্রাসা সড়ক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় বাবরী মসজিদ রোড, মিশ্রপাড়া, নিশ্চিন্ত দক্ষিণ পাশ, রায়গড় গাজিকুল ও সুনামপুর ঈদগাহ সড়ক নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কালীকৃষ্ণপুর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে থেকে মহরমের বাড়ি, রাংজিয়ল ইউপি সীমানা থেকে খারারপার ব্রিজ, ইসলামপুর বাজার থেকে ফজলু মিয়ার বাড়ি, ইসলামপুর খেয়াঘাট থেকে বায়তুন-নূর জামে মসজিদ এবং আলফালা একাডেমির সামনে থেকে বসন্তপুর-অমরগঞ্জ বাজার সড়ক বেহাল হয়ে আছে। বাদেপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর থেকে মোল্লার চক পিস, বাগলা-কেউটকোনা থেকে রাকুয়ার বাজার, মীরের চক ফাইদুলের খামার থেকে বাগলা বাজার টাওয়ার এবং ডেপুটি বাজার থেকে হাজিরকোনা হয়ে ভাইয়া-কাঁদিপুর সড়ক জরাজীর্ণ বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসাইন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইউসুফ হোসেন খান জানান, উপজেলায় এলজিইডির মোট ৬৮৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৮৮ কিলোমিটার পাকা ও ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা। তিনি জানান, এসব সড়ক সংস্কার ও নতুন করে উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদা পাঠানো হয়েছে।