তীব্র দাবির মুখে সিলেট নগরীর জল্লারপাড়ে অবশেষে সুপেয় পানির নতুন সংযোগ পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মির্জাজাঙ্গাল থেকে জল্লারপাড়ের প্রবেশমুখ পর্যন্ত পাইপলাইন টানার কাজ চলছে। তবে কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, মির্জাজাঙ্গাল পর্যন্ত এসে আটকে থাকা কাজ পাঁচ বছর পর আবার শুরু হলেও কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন না।
দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধান না হওয়ায় গত ৩ সেপ্টেম্বর জল্লারপাড়ের বাসিন্দারা বালতি, কলস ও মগ নিয়ে সিসিক নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিক্ষোভ দেখান। সিসিকের পানি শাখা জানায়, বিক্ষোভের আগেই সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এলাকাটি পরিদর্শন করে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়। অন্যদিকে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম দাবি করেন, পাঁচ বছর আগে তাঁর নেওয়া পানির প্রকল্পটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আটকে গিয়েছিল।
এদিকে আন্দোলনের পর নগর ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করে সিসিক। এই মামলায় স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী, মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান ও মারুফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ১০ দিন কারাভোগের পর চা বিক্রেতা তাহের, রিকশাচালক জুয়েল ও কর্মজীবী জুয়েল জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এহছানুল হক তাহের ও বাবর বকস হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন।
এলাকাবাসীর দাবি, কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুত সুপেয় পানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে। তবে প্রকল্পটি কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, সে ব্যাপারে সিসিকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।