যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হয়রানি ও কটূক্তি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রবাসে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে এভাবে অপমান ও দুর্নামের মুখে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর টার্মিনাল ৮-এ এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরে ড. ইউনূস হুইলচেয়ারে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক তাঁর সামনে এসে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। তাঁরা ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং অহেতুক নানা প্রশ্ন তুলে তাঁকে মানসিক কষ্ট ও দুর্দশার মধ্যে ফেলেন। ভিডিওতে তাঁদের ড. ইউনূসকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন করতে এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান ও লজ্জায় ফেলার চেষ্টা করতে শোনা যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন নিউইয়র্ক মহানগর ছাত্রলীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা একজন ব্যক্তিত্বকে এভাবে প্রকাশ্যে অসম্মান ও দুর্নামের মুখোমুখি করায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সময় ড. ইউনূসের সাথে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। তবে এই হয়রানির ঘটনা নিয়ে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বা ইউনূস সেন্টার থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।