সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্ধিত এলাকার দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ওয়ার্ডে ৪০৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান, দরপত্র সম্পন্ন ও পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ কোটি টাকার কাজ চলছে, ১৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং আরও ২০৬ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে পরিকল্পনাধীন। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় ৭৩ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমার ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসইকরণ এবং হোল্ডিং ট্যাক্স চালুসহ বিভিন্ন বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
কুচাই এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় প্রশাসক বলেন, বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে সড়ক, ড্রেন ও স্ট্রিটলাইট স্থাপনের অনেক কাজ শেষ হয়েছে। কিছু কাজ এখনো চলমান। আরও কয়েকটি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বিভিন্ন ইউনিয়নের অংশবিশেষ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দারাও নগরের অন্য এলাকার মতো সমান নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন বলে মন্তব্য করেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্ধিত এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। তবে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়েনি। অথচ উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা পরিচালনা করতে হয় নিজস্ব আয় থেকেই। নগরের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার পরিধি বাড়াতে নিজস্ব আয় বৃদ্ধি জরুরি। এ জন্য নগরবাসীকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সিসিকের সচিব মো. আশিক নূরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় সিসিকের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, প্রধান অ্যাসেসর মো. আব্দুল বাছিত ও ট্যাক্সেশন অফিসার মো. জামিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।