এক মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৭ জনের। অক্টোবরে ২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন শিশু। তাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মাসিক হিসাবে এ চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত ওই হিসাবে বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেটে। জেলাটিতে ১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন, আহত হয়েছেন ৩০ জন।
অন্য জেলাগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ৬টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে ৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪ জনের, আহত হয়েছেন ৩ জন। আর সুনামগঞ্জে ২টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন।
নিহত ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৬ জন শিশু। দুর্ঘটনার সংখ্যার দিক থেকেও সবচেয়ে এগিয়ে সিলেট, আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জে।
আগের মাস সেপ্টেম্বরে সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে। তবে আহতের সংখ্যা কমেছে ৩ জন।
নিসচার হিসাবে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়কের নির্মাণগত ত্রুটি।
সড়কে প্রাণহানি কমাতে চালকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিশু। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়কের নির্মাণগত ত্রুটি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে মিশু বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া সড়কে প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয়।