সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে কিছু ঘর খালি পড়ে আছে। অনেক ঘরে ঝুলছে তালা। যারা এখনও বসবাস করছেন, তাদের কেউ কেউ পানি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও ঘরের জরাজীর্ণ অবস্থার সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলার তিনটি এলাকায় দুই শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়া হয়। মুল্লাপুর ইউনিয়নের কাছাটুল এলাকার প্রকল্পে শুরু থেকেই অনেক উপকারভোগীর বসবাসে আগ্রহ ছিল না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে আয়-রোজগারের সুযোগ, পানি ও যোগাযোগের সমস্যার কারণে অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
খাসা পন্ডিতপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা পারভিন বেগম বলেন, সেখানে আগে ৪০টি পরিবার থাকলেও বর্তমানে ১০-১২টি পরিবার রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ঘর বাইরে থেকে ভালো দেখালেও ভেতরের অবস্থা খারাপ এবং বসবাসের পরিবেশ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ঘর পাওয়ার পর থেকে কেউ খোঁজখবর নেননি এবং এক বছরের মধ্যেই ঘরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এদিকে, ওই প্রকল্পের এক বাসিন্দাকে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা সেখান থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করে দিলেই পুনর্বাসন হয় না। যোগাযোগ, পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরগুলোর একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।