৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার

Jalalabad Today

VOICE OF THE VALLEY

ব্রেকিং

সিলেটে উড়ালসড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু, স্বস্তিতে নগরবাসী ● রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে ● আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সিরিজ ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

আবহাওয়া ও পরিবেশ সিলেট

বর্জ্য পড়ে রাস্তায়, সিসিকের লোকসান সোয়া ১২ কোটি

সিলেট নগরীতে প্রতিদিন উৎপাদিত ৪৭৫ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৭৫ টনই সিটি করপোরেশনের সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বাকি বর্জ্যের একাংশ সড়ক ও খোলা জায়গায় পড়ে থাকছে, কিছু যাচ্ছে ড্রেন হয়ে সুরমা নদীতে। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন-ভাতার ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হওয়ায় বছরে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘাটতি বহন করতে হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক)।

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৪৭৫ টন বর্জ্য উৎপাদিত হলেও করপোরেশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় ৩০০ টন। বাকি ১৭৫ টনের একটি অংশ বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ভাঙারি ব্যবসায়ীরা কুড়িয়ে নেন। কিছু এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই গর্তে ফেলেন। তবে অবশিষ্ট বর্জ্যের বড় অংশ সড়ক ও খোলা জায়গায় পড়ে থাকে।

তাঁর হিসাবে, প্রতিদিন ১ থেকে দেড় টন প্লাস্টিক ড্রেন হয়ে সুরমা নদীতে মিশছে।

আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি

নগরবাসীর কাছ থেকে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা ফি নেয় না সিসিক। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থেকে বছরে আদায় হয় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিপরীতে, শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন-ভাতাতেই বছরে ব্যয় হয় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দুই খাতের হিসাবের পার্থক্য ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডে শতভাগ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয় না। এতে করপোরেশনের রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি রয়েছে।

লালমাটিয়ায় জমছে বর্জ্য

নগরী থেকে সংগ্রহ করা ৩০০ টন বর্জ্য প্রতিদিন নেওয়া হয় দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। পুরো নগরীর একমাত্র এই ভাগাড়ে জমে থাকা বর্জ্যের পরিমাণ ১ লাখ টন ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।

ভাগাড়টির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা কত, আর কত দিন সেখানে বর্জ্য ফেলা সম্ভব, তা নির্ধারণে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

লালমাটিয়ায় দৈনিক ১ হাজার টন সক্ষমতার মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) প্ল্যান্ট রয়েছে। তবে সেখানে প্রতিদিন প্রক্রিয়াজাত করা হয় ১৫০ টন বর্জ্য। অর্থাৎ, প্ল্যান্টটির উল্লেখিত সক্ষমতার ১৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাত বর্জ্য থেকে প্রতিদিন ৫০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন আলাদা করে ছাতকের লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়। এ সরবরাহ থেকে সিসিকের বাড়তি কোনো রাজস্ব আয় হয় না বলে জানান মোহাম্মদ একলিম আবদীন।

গাড়ি ও ভ্যানের সংকট

বর্জ্য অপসারণে সিসিকের ৬০টি ভারী গাড়ি নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ৫ থেকে ১০টি বিকল থাকে। নগরীর জন্য প্রায় ১ হাজার ট্রলি ভ্যান প্রয়োজন হলেও রয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০টি।

মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, নতুন ওয়ার্ডগুলোর সড়কের অবস্থা এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে সব এলাকায় ভ্যান সার্ভিস পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তবে মেডিকেল বর্জ্য আলাদাভাবে ও সুরক্ষিতভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *