সিলেটের গোয়াইনঘাটে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে মালামাল লুট ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আট নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীনসহ আটজনকে শোকজ করেছে সিলেট জেলা ছাত্রদল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেওয়া নোটিশে তাঁদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ পাওয়া অন্য নেতারা হলেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, সহসভাপতি বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ হেলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী এবং নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহ রিয়াদ আহমেদ ও নাজমুল হাসান নাঈম।
জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল স্বাক্ষরিত নোটিশে আট নেতার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ হেলু। তাঁর দাবি, গোয়াইনঘাটের হাতিরপাড়া-মানিগঞ্জ সড়কে রাতে চোরাচালানের মালামাল বহনকারী গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিতে পড়ে। এ কারণে তাঁরা কয়েকজন মিলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চোরাকারবারিরা গোপনে ভিডিও ধারণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের সমর্থনে চাঁদাবাজির ভিডিও ফুটেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বহিষ্কার না করে শোকজ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুমিনুল হক বলেছেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে কোনো অন্যায়কারীর স্থান নেই। কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঘটনাটি কোন রাতে ঘটেছে, কত টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে কিংবা কী পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে, তা জানা যায়নি। ভিডিও ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। অভিযুক্তরা শোকজের জবাব দিয়েছেন কি না এবং এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।