সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সেবা বন্ধ রাখায় জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কয়েকজন রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক রোগীর পায়ের অস্ত্রোপচারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীর দুই স্বজনকে আটকে রাখা হলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
স্বজনদের অভিযোগ
ইতালিপ্রবাসী নুর আলমের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা গ্রামে। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ইতালি থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে যান। দুদিন আগে দুর্ঘটনায় তাঁর মায়ের পা ভেঙে যায়।
নুর আলমের ভাষ্য, হাসপাতালের ওটি এলাকায় চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর ১৪ বছর বয়সী ভাগনেকে মারধর করা হয়। ভাগনেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর বোনকেও মারধর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে গিয়ে তিনিও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুর আলমের দাবি, তাঁর ভাগনে হামলায় জড়িত এক চিকিৎসকের নাম আল মামুন বলে তাঁকে জানিয়েছে। তবে ওই চিকিৎসকের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েও তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি বলে দাবি করেন নুর আলম। পরে হাসপাতালের নিচতলায় পুলিশ বক্সে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বক্তব্য
ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক রাকিন হান্না জানান, সেদিন হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৬০ জন রোগী অপেক্ষায় ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অর্থাৎ, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
আহত দুই সাংবাদিক
সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে আহত হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের নিবেন্দু তালুকদার। রেজা রুবেলের অভিযোগ, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের মারধর করেন এবং এতে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে।
ঘটনায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
প্রকাশের আগে যাচাই: সংঘর্ষের সঠিক সময়, আহতদের সংখ্যা ও পরিচয়, চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকার সময়কাল, অন্য হাসপাতালে নেওয়া রোগীর সংখ্যা এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।