আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ জোরদার করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে এখনও নির্বাচনের নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবুও তৃণমূলের রাজনীতিতে তৎপরতা বেড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অধিকাংশ ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে এনেছে।
সিলেটের প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয় থাকায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা বিএনপির একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান, দলের প্রতি ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী বাছাই করতে উপজেলা ও থানা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ওই সভায় জেলা ও থানা কমিটির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন জানান, স্থানীয় সরকারের সবকটি ধাপে নির্বাচন করার প্রস্তুতি জামায়াতের রয়েছে এবং বেশিরভাগ ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ প্রায় শেষ। তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। এছাড়া বেশ কিছু ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গোপনে ও প্রকাশ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সিলেট জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো কমিশন থেকে আসেনি, তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন পূর্বে নভেম্বরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের লক্ষ্য এবং সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানালেও সিলেটে কোনো ধাপে বা কবে নির্বাচন হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।