সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সাড়ে নয় কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নগরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করলেও এগুলো পথচারীদের কোনো কাজে আসছে না। কোনো প্রকার সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিকল্পনা ছাড়া বাস্তবায়িত এসব অবকাঠামো বর্তমানে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত হওয়ায় এবং নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এগুলো অপসারণও করতে পারছে না সিসিক।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইচ্ছায় সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট (বন্দরবাজার) এলাকায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম ফুটওভারব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। (উল্লেখ্য, নগরের বন্দরবাজার এলাকাতেই কোর্ট পয়েন্ট অবস্থিত হওয়ায় স্থানটি সাধারণ মানুষের কাছে বন্দরবাজার ও কোর্ট পয়েন্ট দুই নামেই পরিচিত)। তবে নির্মাণের পর গত ১০ বছরেও সাধারণ পথচারীরা এটি ব্যবহার করেননি। উপরন্তু, ব্রিজের কারণে ওই এলাকার ঐতিহাসিক স্বকীয়তা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে এবং রাতে এটি ভবঘুরে ও মাদকসেপদের আস্তায় পরিণত হয়েছে। সিসিক এটি বিক্রির জন্য দুইবার দরপত্র আহ্বান করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পায়নি, আবার সিসিকের নিজস্ব খরচে অপসারণ করাও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
কোর্ট পয়েন্টের এই অভিজ্ঞতার পরও সিসিক পরবর্তীতে নগরের আরও তিনটি স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা ব্যয়ে টিলাগড়ে, ২০২২ সালে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৪ টাকা ব্যয়ে হুমায়ূন রশিদ চত্বরে এবং ২০২৩ সালে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ১২৭ টাকা ব্যয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। চারটি প্রকল্পে সিসিকের মোট ৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৯ টাকা ব্যয় হলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী।
এ বিষয়ে সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল ইসলাম জানান, জনগণ যেভাবে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করবে বলে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। কোর্ট পয়েন্ট/বন্দরবাজারের ওভারব্রিজটি অপসারণের জন্য কয়েকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় তা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।