কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) অধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস শাটডাউন করে সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানে চরম শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত ফলাফল ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত তাদের এই সর্বাত্মক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনের প্রথম দিনে (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত ২০ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে মানবিক বিবেচনায় শিক্ষকদের ভবন থেকে বের করে ক্যাম্পাসে থাকার সুযোগ দেওয়া হলেও, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা থাকায় শিক্ষকরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে পারছেন না বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলন চলাকালীন গত ২৭ সেপ্টেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয় এবং ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নতুন অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন ও এডিসি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং পরে ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলোচনায় সিটি প্রশাসক কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতামুক্ত হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) অধীনে 'ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি' (IET SUST) গঠনের দাবিতে অনড় থাকেন। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে গঠিত (স্মারক নং: ৫৭.০০.০০০.০০.০৫২.৯৯.০০০২.২৫-১৫৫) পাঁচ সদস্যের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি IET SUST গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এছাড়া, সম্প্রতি এক শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ/দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, উক্ত শিক্ষক ডিপ্লোমা ব্যাকগ্রাউন্ডের, সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর গ্রহণযোগ্য গবেষণা প্রোফাইল নেই, যা বিএসসি ডিগ্রির মান ও স্বকীয়তার পরিপন্থী। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩টি বিভাগের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম সাস্ট এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা আলটিমেটাম দিয়ে জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, আন্দোলন চলাকালীন মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ বা রদবদল মেনে নেওয়া হবে না এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।