২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতির সময় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। তাঁর মাথার খুলি ভেঙে গিয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। দুই দশক পর সেই বাবুল সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির। আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁকে প্রার্থী করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ঘটনার ২০ বছর পূর্তিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিলেট মহানগর জামায়াত। দলটি ২০০৬ সালের হামলা এবং ঢাকার পল্টনে ওই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
সমাবেশের আগে হামলা
দলীয় নেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় কোর্ট পয়েন্টে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। এর প্রস্তুতি দেখতে সকাল ৯টার দিকে সেখানে যান বাবুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এর আগে সকাল ৮টা থেকে দক্ষিণ সুরমায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, লগি-বৈঠা নিয়ে একটি দল কীনব্রিজ পার হয়ে কোর্ট পয়েন্টের দিকে যাওয়ার পথে রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকা, সেতুর নিচের সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা ও সার্কিট হাউস এলাকায় ভাঙচুর চালায়। পরে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে বাবুলসহ সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে বাবুলসহ কয়েকজন আহত হন এবং সভামঞ্চও ভাঙচুর করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
হামলার পর বাবুলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মনজু, নাজমুল ও আবিদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ভূমিকা রেখেছিলেন বলে ঘটনার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত বাবুলকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন। তবে কথা বলার সময় এখনো মাঝে মাঝে তাঁর কথা জড়িয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটির আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, হামলার খবর পেয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা অন্য নেতাকর্মীদের কোর্ট পয়েন্টের পরিবর্তে চৌহাট্টায় জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ছাত্র-জনতা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায় বলেও ওই বিবরণে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী বাবুল
ড. নূরুল ইসলাম বাবুল বর্তমানে সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাঁকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ওই ঘোষণা দেন।
২৮ অক্টোবর স্মরণে জামায়াতের মিছিল
বুধবার বিকেলে বন্দরবাজারের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিলেট মহানগর জামায়াত। দলটির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় বক্তব্য দেন ড. নূরুল ইসলাম বাবুলসহ দলটির স্থানীয় নেতারা। বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা স্মরণ করেন এবং ওই দিনের হামলা ও পল্টনের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচারের দাবি জানান।