৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার

Jalalabad Today

VOICE OF THE VALLEY

ব্রেকিং

সিলেটে উড়ালসড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু, স্বস্তিতে নগরবাসী ● রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে ● আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সিরিজ ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

অপরাধ আইন-শৃঙ্খলা জাতীয় রাজনীতি

প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে সমালোচনার মুখে পড়ার পরদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে অভিযানে প্রতিমন্ত্রী

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করছেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।

ভিডিওতে ইশরাককে কয়েকজনকে থামতে নির্দেশ দিতে এবং তাঁদের ধাওয়া করতে দেখা যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে আটক কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং এভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার বৈধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযানের পক্ষে ইশরাকের বক্তব্য

রোববার নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে বক্তব্যে ইশরাক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি আগে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় নিজেই উদ্যোগ নেন।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে ছাদ থেকে গুলি চালানোর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের রক্ষায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

ইশরাক দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন, কাউকে ভয় দেখানো বা গুলি চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি প্রকাশিত ভিডিওতে অস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করার দৃশ্য নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চার-পাঁচটি আস্তানা উচ্ছেদ ও ছয়জন আটক, দাবি প্রতিমন্ত্রীর

ইশরাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলেও জানান তিনি।

তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইশরাকের বক্তব্য ও পুলিশের বক্তব্যে অমিল রয়েছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানান, অভিযানের আগে প্রতিমন্ত্রী পুলিশকে অবহিত করেননি। অন্যদিকে, ইশরাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন। তাঁর সহযোগীদের একজনের বক্তব্যেও অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

এদিকে, ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। তবে আগাম সমন্বয়, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি এবং আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তর নিয়ে পাওয়া বক্তব্যগুলোতে পার্থক্য রয়েছে।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ডিএমপির তদন্ত

প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্ত শুরু করেছে। রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এভাবে পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নে শফিকুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য করেননি। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে এ ঘটনায় আইনগত কোনো অপরাধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

লাইসেন্স থাকলেই কি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা যায়?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ফলে ইশরাকের অস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সের অধীন কি না, তার পাশাপাশি অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের ধরনও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইশরাক আত্মরক্ষার প্রয়োজনের কথা বললেও প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁর অস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করার দৃশ্য দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর কর্মকাণ্ড নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা।

পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাকের অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ নির্দেশের কথা জানা গেলেও রোববার রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা এখনো সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *