সিলেটের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস প্রায় পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। কিন্তু অধিকাংশ গবেষক এ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে অপরিচিত হওয়ায় এখানকার প্রাচীন স্থাপনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে না। এমনই একটি স্থাপনা সিলেটের ওসমানীনগরে অবস্থিত সুলতানি আমলের বলে পরিচিত প্রাচীন এক গম্বুজবিশিষ্ট ‘গায়েবি মসজিদ’। মসজিদটি ভেঙে সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গঠিত একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মসজিদটি পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন দলটির সদস্যরা।
মসজিদটির অবস্থান ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের উসমানপুর গ্রামে, তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের ধারণা, মসজিদটি প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছর আগে নির্মিত। এর স্থাপত্যরীতি দেখে এটিকে সুলতানি আমলের স্থাপনা বলে মনে করা হয়। তবে মসজিদটির নির্মাণকাল নিশ্চিত নয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রতিনিধি দল জানতে পারে, এলাকার কিছু ব্যক্তি প্রাচীন মসজিদটির স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে চাইছেন। তবে এ উদ্যোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, প্রাচীন মসজিদটির ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি না করায় এরই মধ্যে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে। মসজিদের মেহরাব ও দেয়ালে রঙিন টাইলস বসানোর সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন প্রাচীন স্থাপনার মূল বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ক্ষতিসাধন করে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা উদ্বেগজনক বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
মসজিদটি ওয়াক্ফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি। সিলেটে টিকে থাকা প্রাচীন এই স্থাপনা সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। তাঁদের মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এলাকার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা মসজিদটি রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন এবং প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার।