১৮ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার

Jalalabad Today

VOICE OF THE VALLEY

ব্রেকিং

সিলেটে উড়ালসড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু, স্বস্তিতে নগরবাসী ● রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে ● আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সিরিজ ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

Uncategorized

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ‘ভিসা হপার’ ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য ভিসার নিয়ম কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের সেদেশে সঙ্গে আনতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের এই নতুন নীতিমালা ও কড়া অভিবাসন বিধিনিষেধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যাতে যথেচ্ছভাবে স্বয়ংক্রিয় সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন, সে ব্যবস্থা আর রাখা হবে না।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নীতিমালায় কিছু বিশেষ ছাড় থাকছে।

একই সাথে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত পিএইচডি শিক্ষার্থীরাও তাদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসার সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন।

‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামের এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতায় তিনি এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের মূল পরিকল্পনা হলো আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের নিট অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।

নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা বারবার কোর্স পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও কঠোরভাবে সীমিত করা হচ্ছে।

তবে যে সকল শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি শেষে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্সের মতো উচ্চতর ডিগ্রির দিকে এগোতে চাইবেন, তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।

তরুণদের জন্য প্রচলিত ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের অবস্থানের সুযোগ এখন ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হবে।

লটারি ব্যবস্থার অধীনে দ্বিতীয় বছরের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় বছরের জন্য মাত্র ৫ হাজার জন সুযোগ পাবেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।

তবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থাকায় ব্রিটিশ নাগরিকরা এসব নতুন বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে দেশটিতে জনসংখ্যা ও অভিবাসন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ২ কোটি ৭৯ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *