৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার

Jalalabad Today

VOICE OF THE VALLEY

ব্রেকিং

সিলেটে উড়ালসড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু, স্বস্তিতে নগরবাসী ● রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে ● আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সিরিজ ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

রাজনীতি সিলেট

তামাবিলে মন্ত্রীর সভায় হট্টগোল: ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মাহফুজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তামাবিল স্থলবন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্যদের হলরুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন মন্ত্রী। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সভা শেষে তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসায়ী সভাকক্ষে প্রবেশের সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয় এবং মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সভাকক্ষে প্রবেশের সিঁড়িতে হট্টগোলের একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, মাহফুজের উচ্চ স্বরে কথা বলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

ঘটনার পর শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ মাহফুজুর রহমানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।

বহিষ্কারের পর মাহফুজ আহমদ নিজের ফেসবুক আইডিতে বহিষ্কারাদেশের কপি শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় তিনি ও অন্য ছাত্রদল কর্মীরা মন্ত্রীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দেন এবং বিষয়টি তদন্ত না করেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, "এই শহরে আমার একটাই পরিচয়, আমি ছাত্রদলের মাহফুজ।" ভবিষ্যতে আবার ছাত্রদলে ফিরে আসার প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেন।

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। জৈন্তাপুর শাহজালাল রহঃ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাহেল আহমেদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজকে পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *