টাকা দাবি আর জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার চাপকে কেন্দ্র করে সিলেটের জকিগঞ্জে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। সুপারিগাছের রুইলের আঘাতে গুরুতর আহত তাঁর মা পিয়ারা বেগম (৬৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পিয়ারা বেগমকে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত আগের দিন শুক্রবার। জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া ও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সুমন তাঁর সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) সুপারিগাছের রুইল দিয়ে আঘাত করেন। এতে কুটিনা বেগমের চোখে জখম হয়। পরে পিয়ারা বেগম তাঁকে নিরাপত্তার জন্য নিজের অন্য ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে রাখেন।
কিন্তু পরদিন রাতেও বিরোধের অবসান হয়নি। পরিবারের সদস্যদের কাছে আবারও টাকা দাবি করেন সুমন। বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার দাবিও জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় পিয়ারা বেগম ছাড়াও আহত হন কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), শাহীন আহমদের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং তাঁর আড়াই বছরের মেয়ে ইসরাত জাহান। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, সুমন কয়েক দিন ধরে টাকা দাবি করছিলেন এবং সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত এবং নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সুমনের বড় ভাই শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় শামীম আহমদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা জানা যায়নি।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সুমনকে তাঁর বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাঁকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকারের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ধারা সংযোজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
পিয়ারা বেগমের মৃত্যু ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।