মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে পাঁচ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার অসুস্থ শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি মো. জাহেদ আহমেদের (২৪) সঙ্গে মুঠোফোনে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাজনগর উপজেলার বাহাদুরগঞ্জে আসামি জুবেল মিয়ার (৩০) বাড়িতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথম রাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখেও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ধারাবাহিক নির্যাতনে শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, এজাহার দায়েরের পর প্রায় ২০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) এবং জুবেল মিয়া (৩০)।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর এজাহারভুক্ত আসামি রাজনগর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কবিরকে (৩০) গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।