সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মসজিদ ও স্কুল কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গেদা মিয়া। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর ও প্রতিবেশী বাবুল মিয়ার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত গেদা মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মসজিদ ও স্কুল কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে গেদা মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন ও ইলিয়াসের পক্ষের বিরোধ চলছিল। কিছুদিন ধরে চলা এই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের কয়েকজন গেদা মিয়া ও তাঁর প্রতিবেশী বাবুল মিয়ার বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় গেদা মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সূত্রের বরাতে তথ্য এসেছে।
আহতদের মধ্যে আনছার আলী, কাহির মিয়া, বশির মিয়া, তাহমিম আহমদ মুরাদ, রবিন ও বাবুলের স্ত্রীর নাম পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গেদা মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ব্যক্তিরাও হামলার শিকার হন।
শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে গেদা মিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। এর আগে ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছিল।
গেদা মিয়া তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। এলাকায় তিনি সালিশি ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।