সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগোচ্ছে। এ হাসপাতাল নির্মাণের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট নগরের উইন্ডসর হোটেলে সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, পরামর্শক নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১২০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সিলেটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর ভাষ্য, এ হাসপাতালটি হবে ২০০ শয্যার।
এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অসমাপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি চালু হলে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী।
সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও কিডনি হাসপাতালের মতো বেসরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরকারি বরাদ্দের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের সংশোধিত বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশের বেশি। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের ডেন্টাল চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবার জন্য সিলেটে আকৃষ্ট করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত শিক্ষাবর্ষে সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনই নারী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-আমিন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়া রহমান চৌধুরী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।