সিলেটের জৈন্তাপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগোল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত পল্লী এলাকাকে শহর ঘোষণা করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা গত ১৫ অক্টোবর এস.আর.ও. নং ৩৭০-আইন/২০২৬ নম্বরে প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার, পিএইচডি।
সরকারি গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী। অন্যদিকে, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মৌজাগুলো হলো কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল। সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত ভূমি শহর ঘোষণার আওতায় এসেছে। গেজেটের তফসিলে মৌজাগুলোর জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরের পরিসরও উল্লেখ রয়েছে।
যেভাবে এগোল প্রক্রিয়া
জৈন্তাপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিও পত্র দেন।
এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ৯ জুলাই এস.আর.ও. নং ২৮১-আইন/২০২৬ নম্বরে শহর ঘোষণার অভিপ্রায় জানিয়ে প্রাথমিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৪ জুলাই সেটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আপত্তি নিষ্পত্তি করে সরকার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
শহর ঘোষণা জৈন্তাপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও পৌরসভার কার্যক্রম কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।