৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার

Jalalabad Today

VOICE OF THE VALLEY

ব্রেকিং

সিলেটে উড়ালসড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু, স্বস্তিতে নগরবাসী ● রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে ● আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সিরিজ ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

অপরাধ আইন-শৃঙ্খলা জনস্বার্থ সংবাদ সিলেট স্বাস্থ্য

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণে ওসমানী হাসপাতাল

রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনা সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। গত ২৮ অক্টোবর রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের সাংবাদিক নিবেন্দু তালুকদার আহত হন। ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে কয়েক ঘণ্টা ব্যাহত হয় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। তবে ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি অস্ত্রোপচারকে কেন্দ্র করে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার এক রোগীর অস্ত্রোপচারে দেরি হওয়ায় স্বজনেরা এর কারণ জানতে চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। একই রাতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা গ্রামের ইতালিপ্রবাসী নূর আলমের মা ও তাঁর কয়েকজন স্বজনও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে যান সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার। মারধরের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে আঘাত করে রেজা রুবেলের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে আটকে রাখা দুই রোগীর স্বজনকে উদ্ধার করে। আহত দুই সাংবাদিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে, হামলার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করলে হাসপাতালের জরুরি ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। রাত প্রায় দুইটা পর্যন্ত সেবা বন্ধ থাকায় কয়েকজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে যান। আবার ভর্তি হতে এসেও ফিরে যান অনেকে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকও ছিলেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর কয়েক মাস পর ৮ জুলাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। এ ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক শাটডাউন পালন করেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ এপ্রিল হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথের বিরুদ্ধে এক রোগীর বন্ধুকে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, রোগীরা মারামারির জন্য নয়, সেবা নিতে হাসপাতালে যান। কিন্তু অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাঁদের ওপর হাত তোলেন এবং মারধর করে পুলিশে দেন। পরে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে ধর্মঘট ডাকেন তাঁরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন তিনি।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বদরুল আমিন বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিছু তদন্ত চলমান রয়েছে। আবার কিছু ঘটনা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করা হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসকদের দ্বিগুণ-তিনগুণ রোগীর সেবা দিতে হয়। অতিরিক্ত চাপ সামলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসকের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে এর জন্য সবাই দায়ী নন, আবার কোনো ঘটনার জন্য তাঁরা এককভাবেও দায়ী থাকেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *