সিলেট নগরের ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও পুলিশ। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত জেল-জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযানের এক ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবারও সড়কে ফিরে আসছেন।
সরেজমিনে নগরের আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, মদিনামার্কেট, রিকাবিবাজার ও সুবিদবাজার এলাকার প্রধান সড়ক এবং ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, হকাররা প্লাস্টিক বিছিয়ে ও ভ্যানগাড়িতে কেনাবেচা করছেন। গত এক মাস ধরে ব্যস্ততম সড়কগুলোর একাংশ দখলে থাকায় এসব এলাকায় ক্রমাগত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীরা হেঁটে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হকারদের আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দকৃত মালামাল সিসিকের মাধ্যমে স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে সাজাপ্রাপ্ত হকারদের থানায় সোপর্দ করে জেলে পাঠানো হলেও উচ্ছেদ স্থায়ী হচ্ছে না।
পূর্বে সিসিকের উদ্যোগে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য লালদিঘীরপাড়ের মাঠে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিছুদিন শৃঙ্খলভাবে কেনাবেচা চললেও বর্তমানে সেই হকাররাও আবার সড়কে ফিরতে শুরু করেছেন। লালদিঘীরপাড় মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, মূল সড়কে হকাররা বসায় ক্রেতারা ভেতরে যান না। ফলে পেটের দায়ে এবং ব্যবসায় টিকে থাকতে তারা আইন অমান্য করেই ফের সড়কে ভ্যান নিয়ে নামছেন।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, লালদিঘীরপাড়ে হকারদের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে হবে। অনিয়ম বন্ধে অভিযান চলবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে হকারদের আটক করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।