সিলেট মহানগরীসহ পুরো বিভাগে আশঙ্কাজনকহারে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। নগরীর সবকটি ওয়ার্ড ছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননকেন্দ্র পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দুই ধাপের অভিযানে নগরীর এক হাজারের বেশি স্থানে এডিসের লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে এ পর্যন্ত ৫১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩ জন।
সিসিক সূত্র জানায়, এডিস মশার আবাসস্থল নির্মূলে ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ধাপে সাড়ে ১৯ হাজার স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে ৯০০টির বেশি স্থানে লার্ভা পাওয়া যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে এ পর্যন্ত সাড়ে ৮ হাজার স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে আড়াই শতাধিক স্থানে নতুন করে লার্ভা মিলেছে। সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, নগর কেন্দ্রিক প্রজননের বাইরে গিয়ে এবার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এডিসের বিস্তার ঘটেছে। লার্ভা ধ্বংসে ও পরিচ্ছন্নতায় সিসিকের ১০টি বিশেষ দল (প্রতিটিতে ৪ জন সদস্য) একযোগে কাজ করছে।
এদিকে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে নতুন ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে মোট ৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের হিসাব অনুযায়ী, মোট আক্রান্ত ৫১৮ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জে ২১৯ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ১১৮, সিলেটে ১০৯, মৌলভীবাজারে ৫৬ এবং অন্য জেলা থেকে এসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, জেলার সবকটি উপজেলায় এডিসের লার্ভা পাওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম চলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগের বড় হাসপাতালগুলোতে ১০টি এবং ছোট হাসপাতালগুলোতে অন্তত ২টি করে ডেঙ্গু বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন ও কিট মজুত রয়েছে। জমে থাকা পানি পরিষ্কারে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার জেলার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।