সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৪২টি ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ করছেন নগরবাসী। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিকত্বের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি সনদ সংশোধনেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।
২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসকের অধীনে চলছে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম। পরবর্তীতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৪ জন কর্মকর্তাকে ৪২টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে নিজ নিজ দপ্তরের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি ওয়ার্ডের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
নগরবাসীর অভিযোগ, একটি প্রয়োজনীয় সনদ পেতেও একাধিকবার ওয়ার্ড কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে গিয়েও পাওয়া যায় না। আবার কোথাও কোথাও অনলাইন সেবা পুরোপুরি চালু না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময় নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
সাবেক কাউন্সিলররা বলছেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। সিসিকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম একজন জনপ্রতিনিধি থাকলে আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। তিনি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ৪২টি ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলরদের পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যতে কাউন্সিলরদের জন্য ‘ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স’ বাস্তবায়নের দাবি জানান। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, কাউন্সিলররা নিয়মিত কার্যালয়ে বসে সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন। বর্তমানে কোথাও কোথাও সেবা নিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র, এমনকি এফিডেভিটও চাওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নাগরিক সেবায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিসিকের ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জাতীয় গৃহায়ন অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী নেজামুল হক মজুমদার। তিনি জানান, নিজ দপ্তরের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ওয়ার্ডগুলো তিনি দেখভাল করছেন এবং দায়িত্বে অবহেলা করছেন না। তবে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের তুলনায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নাগরিকদের ভালোভাবে সেবা দিতে পারবেন, কারণ তাঁরা ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।
ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরলে সেবার মান ও গতি বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।