সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় ৫০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন জন্মান্ধ তাহমিনা আক্তার মৌমি। জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তি নেই তাঁর। শ্রুতিলেখকের সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই ফল অর্জন করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এই শিক্ষার্থী।
মৌমি জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম জায়ফরনগর গ্রামের আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির বড় মেয়ে। সিলেটের জিন্দাবাজারে অবস্থিত গ্রীণ ডিজেবল ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী তিনি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় তাঁর শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পল্লব রায়। তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
২০১৩ সালে সাত বছর বয়সে মৌমিকে জিডিএফে ভর্তি করেন তাঁর বাবা-মা। সেখানে আবাসিক থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন তিনি। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করতে পারেন মৌমি। সিলেট বেতারে খুদে শিল্পীদের মধ্যে প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। গত চার-পাঁচ বছর ধরে তাঁর আবাসন ও পড়াশোনার জন্য কোনো ফি দিতে হচ্ছে না।
এর আগে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেড পেয়েছিলেন মৌমি। এইচএসসির ফল জানার পর কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। তখন কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে জানান, মানবিক শাখার ৫০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ভবিষ্যতে ব্যাংকার হতে চান মৌমি। নিজের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবা করার ইচ্ছা তাঁর। মৌমির বাবা আব্দুল আহাদ মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর মেয়েকে চোখ দেননি, তবে মেধা দিয়েছেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
গ্রীণ ডিজেবল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান জানান, মৌমি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁকে ভালো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।