সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন হালিমা বেগম (৩০)। অসুস্থ নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পথে রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে একটি ট্রাকের পেছনে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ আহত হয়েছেন পাঁচজন।
রবিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হালিমা বেগম তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী রাজু মিয়া সৌদি আরবপ্রবাসী।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন হালিমা। রবিবার নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে নবজাতক ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।
পথে কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হালিমা। দুর্ঘটনায় আহত হন তাঁর মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া, ননদ ইমা বেগম এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমান।
আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকেও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান হালিমা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।