মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ভুয়াই বাজারে পাশাপাশি মসজিদ ও দুর্গামন্দির। মসজিদে আজানের সময় বন্ধ রাখা হয় মন্দিরের মাইক ও ঢাকঢোল। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দুই ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতায় এভাবেই চলছে ধর্মীয় আচার পালন।
উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভুয়াই বাজারে অবস্থিত ভুয়াইবাজার জামে মসজিদ ও শ্রীশ্রী সর্বজনীন দুর্গামন্দির। উপাসনালয় দুটির দূরত্ব প্রায় ৪০ ফুট। মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্যদিকে, মন্দিরে বছরজুড়ে বিভিন্ন পূজার আয়োজন হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় চলে সপ্তাহব্যাপী পূজার্চনা।
মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজ উদ্দিন বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে এ মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। পূজার আগে মন্দির কমিটির সদস্যরা নামাজের সময়সূচি সংগ্রহ করেন। সেই সময়সূচি অনুযায়ী নামাজের সময় মন্দিরের মাইক ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান মাসুক বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব থাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছেন। এ সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত থাকুক, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পিযুশ কান্তি দে ও জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতীশ চন্দ্র দাস বলেন, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় আচার পালনে বাধা না দিয়ে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে চলছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জুড়ী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ডা. পিংকু চন্দ্র দাস বলেন, ভুয়াই বাজারে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে নির্বিঘ্নে নামাজ ও পূজা অনুষ্ঠিত হওয়া একটি বিরল দৃষ্টান্ত। জুড়ী উপজেলায় সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় থাকলে সমাজ সুন্দর থাকে। ভুয়াই বাজারের এই সম্প্রীতি ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।