সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে তাঁরই অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত অফিস সহকারী হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ঘুষ নেন। সরেজমিনে তদন্ত শেষে আজ সকালে অফিসে এসে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে সাইফুল উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেন। পরে তিনি তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম মারধর ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গতকাল সোমবার ‘কন্যা শিশু দিবস’ উপলক্ষে বীরনগর গ্রামের নারীদের দেওয়া ২২ হাজার টাকার চেক হস্তান্তরের পর কর্মকর্তা নিজেই সেখানে গিয়ে ভাগের টাকা চান। সকালে অফিসে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মারতে আসেন। এ সময় চেয়ারের সঙ্গে পা আটকে পড়ে গিয়ে কর্মকর্তা মাথায় আঘাত পান।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনী দেবী জানান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সকালে এসে বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন এবং তাঁর কপালে জখম দেখা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।