সিলেট সিটি করপোরেশনের (এসসিসি) উদ্যোগে গত মঙ্গলবার নগর ভবনে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে দলটির জেলা ও নগর কমিটির একাংশের শীর্ষ নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
তবে নগর ভবনের সংবর্ধনা বর্জন করলেও মহানগর বিএনপির নেতারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে দূরত্ব এবং সংবর্ধনার আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে জটিলতার কারণেই মূলত এই বর্জনের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংবর্ধনা বর্জনের নেপথ্যে রয়েছে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা। বর্তমানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্তত আটজন নেতা মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন। এছাড়া সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীরের অনুসারী হিসেবে তিনটি আলাদা রাজনৈতিক পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা নিয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিতদের বড় অংশ দাওয়াত না পাওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। অন্যদিকে সিটি প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সিটি করপোরেশনের সর্বজনীন আয়োজন ছিল এবং দলীয় ও নাগরিক প্রতিনিধি সকলকেই নিয়মানুযায়ী আমন্ত্রিত করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মতভেদের জেরে এর আগেও প্রকাশ্যে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কয়েস লোদী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর মধ্যে তণ্ডুল তর্ক এবং ডিসেম্বরে নাছিম হোসেইনকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া গত ১ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনে কাইয়ুম চৌধুরীসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সিটি নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, এসব অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ততই প্রকাশ্যে আসছে।